Cherreads

Chapter 8 - Unnamed

#পর্বসংখ্যা৯

‎#হ্রদয়ামিলন

‎#Shavakhan

‎রাতের শহরের যানজট চাপিয়ে এগিয়ে চলছে আরজের বিএমডব্লিউ গাড়িটি।গাড়িতে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। আরজে নীরবতা ভেঙে বললো,

‎ -"সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকো, আমার ফোন ওঠাও নি কেন?"

‎সানা চোখ বন্ধ করে রেখেছে। সে ভাবছে ওই ছায়াটার কথা। নাহ সে ভুল দেখেনি, পর মুহুর্তে আবার ভাবছে বিল্ডিং এর এত কড়া সিকিউরিটি থাকতে কেউ কিভাবে আসবে। কিন্তু আরজের কথা শুনে তার ধ্যান ভাঙল। সে চোখ খুলে তাকালো, উল্টো দিকে ফিরে আবারো চোখ বন্ধ করে নিল। আরজে এবার একটু জোরে বললো,

‎ -"সানা, আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছি?"

‎সানা চোখ বন্ধ রেখেই জবাব দিল,

‎ -"ব্লকটা কে করে রেখেছে সেটা দেখেন আগে"

‎আরজে একটু অবাক হলো,

‎ -"আমি তো তোমাকে ব্লক মারিনি, এক সেকেন্ড"

‎এই বলে সে হাতে নিজের ফোনটাকে নিল। না তার দিক থেকে তো কোন ব্লক নাই। তাহলে কি? সানা! সে তড়াক করে সানার দিকে তাকালো। সানা এই মুহূর্তে মনে মনে হেসে কুটিকুটি। এই জাওরা ব্যাটাকে ওই দিনেই ব্লক মেরে দিয়েছিল নিজের লাইফ থেকে আর নিজের মোবাইল থেকেও। আরজে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

‎ -"সানা, আনব্লক মি রাইট নাউ"

‎ -"মোবাইলে চার্জ নেই, চার্জ হলে আমি ব্লক মেরে দিব, আই মিন আনব্লক করে দিব"

‎ -"তুমি এখন আমার সামনেই করবে"

‎ -"আরে আমি বলছি তো আমি করব"

‎সে হামি তুলতে তুলতে আবারো বলল,

‎ -'আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে, ডোন্ট ডিস্টার্ব মি। গুড নাইট"

‎ -"সানা তোমার সাথে আমার..."

‎আরজে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো, সানা অলরেডি উল্টোদিকে মুখ করে সিটে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়েছে। আরজে সানাকে আর ডিস্টার্ব করল না।

‎ গাড়ি এসে থামল জাওয়ান ম্যানশনের সামনে। আরজে সানার দিকে তাকিয়ে দেখে সানা ঘুমিয়ে আছে। আরজের কি হলো সে নিজেই জানে না। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কেন জানি সানার ঘুমন্ত মুখ তাকে একটু ছুঁয়ে দেওয়ার ইচ্ছা জাগাচ্ছে। এই উজ্জ্বল শ্যামলা মেয়েটা তাকে তার শক্ত খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করছে। কই এর থেকেও তো বেশি সুন্দরী অ্যাক্টার্সদের সাথে সে কাজ করেছে। কিন্তু কোনদিনও তাদের দিকে তাকানোর ইচ্ছাও জাগে নি। তার ভিতরে থাকা পশুটা তাকে সবকিছু থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই মেয়েটা! শুধু কি হালাল বলেই। কই আগে তো এমন কোনদিনও মনে হয়নি। অবশ্য সে সবসময় সানা কে অবহেলায় করে গেছে। আরজে নিজেকে আটকাতে না পেরে কাঁপাকাঁপা হাত সানার মুখের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ঠিক ওই মুহূর্তে সানা হঠাৎ চোখ খুলে ফেলে। আরজে তাড়াতাড়ি নিজের হাত গুটিয়ে ফেলল। সানা আরজে কে বলল,

‎ -"মরতে চান নাকি?"

‎আরজে বুঝতে পারলো না সানা কী বুঝাতে চেয়েছে। তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সানা গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। জাওয়ান ম্যানশনের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,

‎ -"ডিয়ার চাচুমা, সানা ইজ কামিং"

‎সে আরজে কে ফেলেই ম্যানশনের দিকে চলে গেল।

‎বিশাল সবুজ লনের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জাওয়ান ম্যানশন। দেওয়াল জুরে আইভি লতাগুল্মের সবুজ আকি-বুকি, তার ফাঁকে ফাঁকে লণ্ঠনের ক্ষীণ সোনালী আলো ঝড়ে পড়ছে। প্রধান দরজাটি তৈরি কাঠের, তার ওপর নকশা খোদাই করা। তা ঠেলে প্রবেশ করলে মনে হবে ভিতরের দৃশ্য আরো গভীর আর মহিমান্বিত। বিশাল হল রুম, মেঝেতে শোভাবর্ধন করছে ইতালিয়ান মার্বেল, তার উপর ঝুলছে বিশাল ক্রিস্টাল চ্যান্ডেললিয়ার যার প্রতিটি স্তর তারার মতো জ্বল জ্বল করছে। মাঝখানে সিঁড়িটি বাঁক নিয়ে উপরের ফ্লোরে উঠেছে। রেলিং এ বোঞ্জের নকশা, পাশেই ডাইনিং হল টেবিলের উপর সাজানো রুপার ক্যান্ডেলস্টিক, সব মিলিয়ে যেন কোন স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ।

‎সানা ভিতরে প্রবেশ করেই দেখে ঈশানী হলের ঠিক মাঝখানের গারো ক্রিম আর শ্যাম্পেন সোনালী রঙ্গের মিশ্রণে গড়া সোফা টিতে বসে আছে। তার দিকে কেমন লুচির মত ফুলে তাকিয়ে আছে। সানা মনে মনে ভাবছে,

‎ -"এই কালীনাগিন আমার দিকে এমন আলুর মতো তাকিয়ে আছে কেন? আমি আবার ওর কোন কাঁচা ক্ষেতে মই দিয়েছি"

‎সে যাই হোক সানা ও গিয়ে বসে পরলো। ঈশানী উঠে চলে গেল মুখ বাঁকিয়ে।

‎________________

‎এদিকে আরজে গাড়িতে বসে বুঝতে পারছেনা সে এতক্ষণ কি করতে যাচ্ছিল। সে কেন নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না। তাহলে কি সানার প্রতি দুর্বল হয় পড়ছে। না, এটা অসম্ভব। সে রেগে স্টিয়ারিংয়ে কয়েকটা থাবা বসিয়ে দিল। তার চোখ ইতিমধ্যে লাল হয়ে গিয়েছে। সে নিজের চুল খামছে ধরলো। না তার ভিতরের পশুটা বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে সে জোরে চিৎকার করে উঠলো,

‎ -"সানা সানা ইউ ইডিয়েট"

‎তার হাত কাঁপা শুরু করে দিয়েছে। নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারছে না। তাড়াতাড়ি গাড়ির সিক্রেট বক্স খুলে একটা ওষুধের শিশি বের করল। একটা ট্যাবলেট নিয়ে মুখে পুড়ল। হাত কাঁপার কারণে বেশিরভাগ নিচে পড়ে গেলো। এগুলো ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা, যেটা বেশি খাওয়া মানে নিজের জীবন সংকটে ফেলা। ধীরে ধীরে সে শান্ত হয়ে এলো। পাঁচ মিনিট সিটে হেলান দিয়ে বসে থাকলো। তারপর হাত দিয়ে নিজের চুল ব্যাক ব্রাশ করে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বেরিয়ে আসলো।

‎_______________

‎ডাইনিং টেবিলে বসে আছে জাওয়ান ম্যানশনের সবাই। সানা আর ঈশানী ও আছে। সোফিয়া জাওয়ান মাঝখানে চেয়ারে বসে ডান পাশে আরজে, তার পাশে সানা। নাতাশা বিরক্তিসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সানার দিকে।

‎এই মেয়েটাকে তার ভাইয়ের সাথে একদম মানায় না। তার ভাই কতটা স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম, অথচ সানা তেমন সুন্দরীও না শুধু একটু মায়াবী, দ্যাটস ইট।

‎কিন্তু সানার ওদিকে কোন খেয়ালই নাই। সে এক মনে এটা ওটা নিয়ে খেয়েই চলছে ভাব এমন যেন 'চারদিক গোল্লায় যাক তার কি'

‎আরজে আর ফিরোজ জাওয়ান উঠে চলে গেছে। তাদের ভিডিও কনফারেন্সিং আছে। আরজের নিজের মায়ের সাথে বন্ডিং টা যতটা খারাপ,ঠিক ততটা তার কাকার সাথে ভালো।

‎হঠাৎ মিসেস সোফিয়া কি মনে করে সানার দিকে তাকিয়ে কিচেন শেপকে হাঁক ছুড়লো,

‎ -"আলী, আলী"

‎পাকিস্তানি শেফ্ আলী দৌড়ে এলো,

‎ -"জি বেগম সাহেবা"

‎তিনি টেবিলের পরোটা দেখিয়ে বললেন,

‎ -"এগুলো কি? এসব ছোটলোকি খাবার তুমি টেবিলে কেন রেখেছো?"

‎সানা ভালোমতোই বুঝতে পারছে তাকে বলেছে। সে এটারই অপেক্ষা করছিল। সানা ঠোটের কোণে হাসি ফুটিয়ে, একটা পরোটা নিয়ে চিবোতে চিবোতে বলল,

‎-"আলীজি জবরদাস্ত, এসা কুই বানায় আপ নাম লিখদে, মে নাম বাদালদো"

‎আলীর মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সে সানার জন্যই পরোটা বানিয়েছে পাকিস্তানি স্টাইলে, সানার পছন্দ কিনা। সানা সব সময় তার খাবারের প্রশংসা করে। সানা এবার মিসেস সোফিয়া দিকে তাকালো,

‎ -"ডিয়ার চাচুমা আপনি বরং এক কাজ করুন খাবারটা রেখে দিন"

‎সুফিয়া ভ্রুকুটি করে তার দিকে তাকালো,

‎ -"কেন?"

‎ঈশানী নাতাসা আর সোফিয়া সানার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে,

‎ -"একচুয়ালি আপনি ছোটলোকিদের হাতে খাবার খেলে যদি আপনার আবার আলসার ক্যান্সার হয়ে যায়। আপনি আমার ওয়ান এন্ড অনলি মাদার ইন ল বলে কথা। আমি বরং আপনার জন্য পুরো কিচেন খালি করে দিব। আপনি নিজের হাতে রান্না করবেন। একদম বড়লোকি খাবার৷ বৌমা হিসেবে এটুকু তো করতে পারি তাই না"

‎তিন জোড়া চোখের বেরিয়ে আসার উপক্রম। যেই সোফিয়ার মুখের উপর আজ পর্যন্ত কেউ কিছু বলার সাহস পাইনি তাকে কেউ এভাবে বলছে। তাও সানার মত মেয়ে। উনি গর্জে উঠলেন,

‎ -"এই জন্যই আমার তোমার মত মেয়েদের পছন্দ না"

‎ -"চাচুমা আপনার আমাকে পছন্দ নাই হতে পারে। তারমানে আমি খারাপ নই, আপনার পছন্দই খারাপ। এক্সকিউজ মি, গুড নাইট।"

‎এই বলে সানা কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে কারো দিকে না তাকিয়ে চলে গেলো। ঈশানী সানার ব্যাপারে কিছু বলবে তার আগে সোফিয়া তাকে থামিয়ে বলে দিলেন,

‎ -"তোমার খুশি হবার কোন কারণ নেই আমার তোমাকেও পছন্দ না"

‎ব্যাস ঈশানীর মুখটা কালো হয়ে গেল। ভদ্রমহিলা ঈশানীকেও খাস পছন্দ করেন না। সানা যেতে যেতে এই কথাটা শুনে ফেললো। সে আবার ফিরে আসলো। পিছন থেকে সোফিয়াকে ডেকে উঠলো,

‎ -"চাচুমা আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে যদি আপনি অনুমতি দেন আমি বলব।"

‎মিসেস সোফিয়া ভেতরে ভেতরে রেগে আগুন। সানার এই ব্যবহারে তিনি সন্তুষ্ট না। সানাকে তিনি হাজারটা কথা শুনিয়েছেন কিন্তু কোনদিন ও সানা তার প্রতিবাদ করেনি। তাকে অপমান করে তিনি কেমন একটা পৈশাচিক আনন্দ পেতেন। সবার সামনে তিনি কিছুই বলবেন না। আলাদা ক্লাস নেবেন। ভিতরের রাগ সামলে তিনি বললেন,

‎ -"ঝেরে কাশো"

‎সানা বুঝতে পেরেও তাকে রাগানোর জন্য জোরে জোরে কাশতে শুরু করলো। মিসেস সোফিয়া জাওয়ান তার দিকে চোখ গরম করে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,

‎ -"যা বলতে এসেছ, বলে বিদায় হও?"

‎ -"একচুয়ালি আমি বলতে এসেছি, আপনার তো আমাকে পছন্দ না। ওই কালনাগিনী কেও পছন্দ না। এখন বলছি কি আজকাল ডারাজে সব পাওয়া যায়, আপনি যদি একটা বৌমা ওখান থেকে অর্ডার দেন তাহলে আপনার হয়তো পছন্দ হতে পারে।আপনি বললে আমি ডারাজে অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে পারি"

‎ঈশানী নিচের দিকে তাকিয়ে হাসছে সানাকে তার পছন্দ না হলেও এই মহিলাকে সে নিজেও দেখতে পারে না। কি এরোগ্যান্ট! অহংকারে যেন মাটিতে পা পড়ে না। মিসেস সোফিয়া সানার দিকে চোখ গরম করে তাকাতেই সানা একটা কেবলামার্কা হাসি দিয়ে চলে গেল। এই সবকিছুর মাঝে একমাত্র রিয়ানা যে নির্বাক হয়ে নিজের খাবার শেষ করে চলে গেল। সে তার মায়ের এইসব কাজ একদম পছন্দ করেনা। সে ইন্টুবার্ট না কারো সাথে মিশে না কারো সাথে কথা বলে।

‎রাত দশটার সময় মিসেস সোফিয়া নিজের রুমে পায়চারি করছেন। তার সানার কথা এখনো হজম হয়নি। তার ওপর কখন থেকে ঈশানী এসে তাকে উসকাচ্ছে। তিনি সানা কে ডেকে পাঠিয়েছেন। সানা হামি তুলতে তুলতে এসে ওনার সামনেই পায়ের উপর পা তুলে বসে পড়ল। মিসেস সোফিয়া তাকে চোখ বড় বড় করে দেখছেন। কিন্তু সানা বিরক্তি সূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ঈশানীর দিকে যে কুটিল হাসি দিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। এবার মিসেস সোফিয়া দিকে তাকিকে বললো,

‎ -"কিছু বলবেন চাচুমা?"

‎ -"তুমি নাকি আজকাল একটু অদ্ভুত বিহেভ করছো"

‎ -"ও তাই নাকি! ইসরে আপনার গুপ্তচর আপনাকে সঠিক খবর দেয়নি। আমি একটু না পুরো অদ্ভুত বিহেভ করছি। গুপ্তচর পাল্টান,

‎ নতুন গুপ্তচর রাখুন,

‎সঠিক খবর সঠিক সময়ে পেয়ে যান।

‎ বাই দ্যা ওয়ে গুড নাইট"

‎এই বলে সে যেভাবে এসেছে সেভাবেই চলে যায়।তার ওইদিকে এসপির সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে। এদিকে সোফিয়ার মাথায় যেন রক্ত চড়ে গেল। তাকে সানার ক্লাস নিতেই হবে। কিন্তু এখন না সময় বুঝে। সেই ঈশানীর দিকে তাকিয়ে বলল,

‎ -"তুমিও যাও"

‎ঈশানী যাবে এমন সময় সোফিয়ার কণ্ঠ আবার তার কানে আসলো,

‎ -"আরজের থেকে দূরে থাকবে"

‎ঈশানী কিছু বলবে ঠিক ওই মুহূর্তে সানা মিসেস সোফিয়াকে পিছন দিক থেকে দুই বাহু ধরে জোরে বলে উঠলো,

‎ -"চাচুমাআআআআ..."

‎তিনি চমকে লাফিয়ে উঠলেন। সানা পেছন থেকে এমন ভাবে আকস্মিক ডাক দিবেন, এর জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি এক হাত বুকের বা পাশে রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে শুধালেন,

‎ -"আমার হার্ট অ্যাটাক করাতে চাইছো"

‎সানা অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বলল,

‎ -"বলছেন কি চাচুমা, এই বয়সে আপনার হার্ট কারো প্রতি অ্যাটার্ক হচ্ছে, দিস ইজ নট ফেয়ার টু মাই শাশুরজী"

‎মিসেস সোফিয়া বুঝতে পারেনি সানার কথা,

‎ -"কি বললে তুমি?"

‎সানা ওনাকে আশ্বাস দিয়ে বললো,

‎ -"ডোন্ট ওয়ারি চাচুমা, আই ফোল্লি সাপোর্ট ইউ। আপনার সেকেন্ড ম্যারেজ আমি দুপায়ে দাঁড়িয়ে দিব"

‎তিনি এবার বুঝলেন সানা তার মজা উড়াচ্ছে, তিনি রেগে চিৎকার করে উঠলেন,

‎ -"তুমি এই মুহূর্তে আমার চোখের সামনে থেকে যাবে"

‎ -"চাচুমা এনিওয়োন টেকিং ইউর সাইড অর নট, আই এম অনলি টেকিং ইউর সাইড"

‎সোফিয়ার রাগ এবার সপ্তকাশে। তিনি এবার এক চিৎকার দিয়ে বললেন,

‎ -"গেট'স লস্টটটট....."

‎সানা মুখ বাকিয়ে যেতে যেতে বলল,

‎ -"আচ্ছাই কা কোই জামানায় নেহি রাহা"

‎ঈশানী দরজায় দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিল। তার ভীষণ খুশি লাগছে। সানা এই মহিলাকে এভাবে জব্দ করেছে। বেশ ভালো হয়েছে,শুধু মাত্র শত্রু হওয়াতে

‎সানাকে একটা নোবেল দিতে পারেনি। একটা ইগোস্টিকের ব্যাপার স্যাপার আছে। তারপরও সানা কে একটা সাবাসি দিয়ে সে চলে গেল।

‎__________________

‎আরজে মিটিং শেষ করে রুমের দিকে আসবে এমন সময় সানা তাকে দেখে রুমের দিকে দৌড় দিল। আরজে বুঝতে পেরে তার পিছন পিছন গিয়ে রুমে ঢুকবে তার আগেই সানা ঠাস করে তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল। আরজে খুব ভালো মতোই বুঝতে পেরেছিল, এই মেয়ে এটাই করবে। তাই সে গেল দৌড়ে গিয়েছিল। আরজের এমন মনে হল সানা তার আত্মসম্মানে দুই দুবার ঠাস করে থাপ্পড় মারলো। সে গর্জে উঠলো,

‎ -"সানা ইউ ইডিয়েট, ওপেন দা ডোর....দ্যাটস্ নট আওয়ার হোম"

‎ -চলবে.....

More Chapters