#পর্বসংখ্যা১২
#হ্রদয়ামিলন
#Shavakhan
'অ্যাটলান্টিস, দ্য পাম' দুবাইয়ের বিখ্যাত সমুদ্র পাড়ের বিলাসবহুল রিসোর্ট আজ সোনালী আর নীল আলোয় সজ্জিত। ভিতরের বিলাসবহুল বলরুম আজ আরজের 'ইনফিনিটি লাভ' মুভির ইনভেস্টার পার্টির জন্য আরো ঝলমলে হয়ে ওঠেছে। ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি গুলো মাথার উপর তারার মতো ঝলকাচ্ছে। আর চারদিকে বাজছে লাইভ স্যাক্সোফোনের স্নিগ্ধ জ্যাজ। গোল্ডেন কার্পেট বিছানো পথ ধরে একের পর এক বিদেশি প্রযোজক, মিডিয়া টাইকুন, ফাইন্যান্সার ঢুকছেন। ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে চারদিক আলোকিত হয়ে ওঠেছে।
ওদের মাঝে প্রবেশ করে আরজে, মুহূর্তে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয় সে। তার পরনে আজ মিডনাইট কালো রঙ্গের এক্সক্লুসিভ স্যাটিন শাইন টক্সিডো। ভিতরের ধবধবে সাদা শার্টে কোন ভাঁজ নেই। কালো বুট জুতার পলিশ, কালো লেদার এ তাকে আরো ফুটিয়ে তুলছে। ডার্ক ব্রাউন চোখগুলো ক্যামেরার ফ্ল্যাশ লাইটে আরো বেশি চকচক করছে। তার চারদিকে প্রেসের লোকজন তাকে তার মুভির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে।
ঈশানী অদূরে রওনাকের সাথে দাঁড়িয়ে কিন্তু দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত আরজের দিকে। কিছুক্ষণ পর ঈশানী আর রওনাকের মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। মেসেজটা দেখে দুজনের চোখাচোখি হলো। মুহূর্তে দুজনের মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো। পার্টি প্রায় শেষের দিকে । আরজে কিছু ইনভেস্টরের সাথে কথা বলছিল। রওনাক আরজের কাছে আসে তার হাতে কোল্ড ড্রিংকস। সেটা সে আরজের দিকে এগিয়ে দেয়। আরজে কিছু না ভেবে এক চুমুক মুখে তুলে। ঈশানী দূর থেকে সবটাই লক্ষ্য করছে। তার মুখের হাসি চওড়া হল। কিছুক্ষণ পরে আরজের মাথাটা হালকা ঘুরে এলো। চারদিক কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে। সে একটা সিটে বসে পড়ে রওনাক এগিয়ে আসে,
-"স্যার, মনে হচ্ছে উচ্চ সাউন্ডে মিউজিকের জন্য এমন হচ্ছে। চলুন আমি আপনাকে আপনার রুমে দিয়ে আসি"
রওনাক আরজে কে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ঈশানীকে চোখে ইশারা করে। ঈশানী মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। সে নিজের হাতের মোবাইল ফোনে কাউকে মেসেজ টাইপিং করে পাঠিয়ে দে,
-"কাজ হয়ে গিয়েছে"
রওনাক আরজে কে রুমে রেখে আসতেই ঈশানী একটা নাইট ড্রেস পরে আসে। আরজের মাথা এখনো ঝিম ধরে আছে। সে বুঝতেই পারছে না, সে তো পার্টিতে এমন কিছুই খাইনি তাহলে এমন কেন হচ্ছে। ঈশানী ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আরজের দিকে। আরজে এখনো নিজের মাথা ধরেই চোখ বন্ধ করে ডিবানে বসে আছে। ঈশানী কিছুটা ঝুঁকে আরজের কোর্টের দিকে হাত বাড়ায়। আরজে কারো স্পর্শ পেতেই তার হাত ধরে ফেলে। তড়াক করে চোখ খুলে ফেলে আরজে। ঈশানী ধরা পড়ার ভয়ে চমকে ওঠে। আরজে ঝাঁটা মেরে হাত সরিয়ে দেয়। ঈশানী কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। আরজের কন্ঠে বিস্ময় আর কঠোরতা,
-"তুমি.... তুমি এখানে কি করছ?"
ঈশানী কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না সে তোতলিয়ে বলতে শুরু করল,
-"ওই আর... আরজে আমি আ...মি তোমাকে দেখতে এসেছি। তুমি ঠি... ঠিক আছো কিনা?"
আরজে নিজের কঠোরতা বজায় রেখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে,
-"ঠিক করে বলো কি করছিলে তুমি?"
ঈশানী নিজেকে মনে মনে প্রস্তুত করলো, আজকে সে পিছিয়ে যাবে না। যদি সে আজ না বলে তাহলে ওই ব্যক্তি ঈশানীকে ছাড়বে না। ঈশানী কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
-"আরজে... আই লাভ...."
ব্যাস আর বাকিটা বলা হয়ে ওঠেনি তার আগেই একটা জোরে শব্দ হলো 'ঠাস'। থাপ্পড় এতটা জোরে ছিল ঈশানী ছিটকে ডিবানে পড়ে গেল। আরজে কে রাগানোর জন্য এই দুটো ওয়ার্ডই যথেষ্ট ছিল। দেওয়ালে ঝংকার তোলার মতো চিৎকার করে উঠল আরজে,
-"হাউ ডেয়ার ইউ ঈশানী,? হাউ ক্যান ইউ ডেয়ার? ইউ নো আ'ম আ ম্যারিড ম্যান। আর আমার বিয়ে না হলেও তোমার কোন চান্স ছিল না। সেটা আমি তোমাকে হাজার বার বুঝিয়েছি। তুমি হয়তো ভুলে গিয়েছে তুমি কারো আমানত আমার কাছে। আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম আমি তোমার সম্পূর্ণ খেয়াল রাখব। তার মানে এটা নয় তুমি যা খুশি তাই করতে পারবে।"
ঈশানীর অলরেডি হেঁচকি উঠে গেছে। সে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। তার কল্পনাতেও ছিল না আরজে এমন রিয়েক্ট করবে। আরজে সামনে থাকা একটা কাচের টেবিলে জোরে লাথ বসালো। সাথে সাথে কাচটা উচ্চশব্দে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।
ঈশানী দুই হাত দিয়ে কান ঢেকে ফেললো। আরজে উল্টোদিকে ফিরে গর্জে উঠল,
-"জাস্ট গেট লস্ট ইডিয়েট"
ঈশানী হাত দিয়ে নিজের চোখ মুছে দৌড়ে চলে গেলো।
এদিকে আরজে রুমের সবকিছু ভাঙা শুরু করে দিয়েছে। তার ভিতরের পশুটা বেরিয়ে আসতে চাইছে। হাতের কয়েক দিক দিয়ে কেটে গিয়েছে। হাত দিয়ে ঝর ঝর করে রক্ত ঝরছে। সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না। মাথার চুলগুলো জোরে টেনে ধরছে। তার চোখ রীতিমতো লাল হয়ে গিয়েছে। চোখের শিরা গুলো টানটান হয়ে উঠেছে। নাকের পাটাতন ফোলে রক্ত পড়া শুরু করে দিয়েছে। সে ভালো করে বুঝতে পারছে নিশ্চয় তাকে উল্টোপাল্টা কিছু দেওয়া হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে খুব ভাঁজে ভাবে। এবার তার ওষুধের দরকার। আরজে ঔষধ খুঁজতে থাকলো আর মুখে বিড়বিড় করছে কয়েকটা শব্দ বারবার,
-" মম সানাকে ছাড়বে না, মম সানাকে ছাড়বে না। আমার থেকে সব কেড়ে নেবে।...."
সে এদিক সেদিক হাতরে একটা ইনজেকশন বের করে ওটা পুশ করে দিল কাঁপা কাঁপা হাতে। এভাবেই কতক্ষণ বসে থাকলো। আরজের সারা মুখ রক্তে চেয়ে গিয়েছে, সিল্কি চুল গুলো সারা কপাল জুড়ে। তাকে এখন দেখতে এতটাই ভয়ঙ্কর লাগছে, যে কারো নিঃশ্বাস আটকে আসবে। আরজে ওঠে চলে যায় বাথরুমে। এখন তার একটা লম্বা শাওয়ার দরকার।
_____________
মনিটরের স্কিনের সামনে বসে আছে ঈশানী আর রওনাক। দুজনেরই ঘেমে ঘেয়ে অবস্থা একাকার। ঈশানী বারবার ঢোক গিলছে যেন নিজের ভয় লুকানোর মেকি চেষ্টা। কেননা মনিটরের স্ক্রিনে থাকা ব্যক্তিটি যেন রাতের অন্ধকার ছিড়ে বেরিয়ে আসা এক ছায়া। তার গায়ের পোশাকের রং কালোর থেকেও গভীর। লম্বা কালো হুড দিয়ে মুখের অর্ধেক ঢাকা, মুখে কালো হ্যালোইন মাস্ক, এর মাঝে কেবল দুটি চোখেই দেখা যাচ্ছে। দুটি নীলাভ চোখের মনি, যা ইতিমধ্যে লাল হয়ে ওঠেছে। চোখের ভেতরেই যেন একটা নীরব ঝড় জমে আছে, একটা ঠান্ডা প্রতিশোধ। তার পেছনে ধীমে ধীমে জ্বলছে কিছুটা আলো। সেই আলোতে তার চেহারাটাকে আরো ভয়ংকর করে তুলছে। ভেসে এলো তার ইলেকট্রিক ভয়েজ মনে হচ্ছে সে তার আসল কন্ঠস্বরও কাউকে শোনাতে চায় না,
-"রাস্কেল, তোমাদের দুজনকে দিয়ে একটা কাজও হয় না"
ঈশানীর অবস্থা খারাপ সে এই ভয়টাই পেয়েছিল রওনাক নিচু স্বরে মিন মিন করে বললো,
-"মাস্টার আমি তো ওই কোল্ড ড্রিংকসটাই দিয়েছি যেটা আপনি পাঠিয়েছেন"
আরো ঝংকার দিয়ে কাঁপিয়ে তোলা চিৎকার এলো ওই পাশ থেকে,
-"এতটা হাই লেভেলের ড্রাগস দেওয়ার পরও আরজে সজ্ঞানে কিভাবে ছিল? "
এবার ঈশানী কণ্ঠে ভয় নিয়ে মিন মিন করে বলল,
-"মাস্টার আমরা তো কিছুই জানি..."
ঈশানী তার কথা সম্পূর্ণ করতে পারল না। তার কথা কেটে ঝাঁঝালো কন্ঠ আসে ওই দিক থেকে,
-"ইউ টু হ্যাভ আ লাস্ট চান্স, ইফ ইউ ফেইলড্ দ্যাট মিন্স ইউ ফিনিশড্"
রওনাকের দিকে তাকিয়ে আদেশ ঝারলো,
-"রওনাক সেন্ড মি দা সিসিটিভি ফুটেজ"
কল কেটে যায় রওনাক আর ঈশানী যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। রওনাক আরজের রুমে লাগানো সিসিটিভির ফুটেজ টা পাঠিয়ে দেয়।
মনিটরের ওই পাশের ব্যক্তিটি মাস্ক এর নিচের ঠোঁটের কোণে ডেভিল হাসি ফুটে ওঠে। সামনের স্ক্রিনে আরজে আর ঈশানীর ভিডিও, কিন্তু ভিডিওতে এমন কোন মুহূর্ত নেই যেটা তার কাজে আসবে।
সে ভিডিও ক্লিপটা ছুঁড়ে ফেলে দিল। তার সামনে থাকা টেবিলে সানার কয়েকটা ছবি রাখা। সেখান থেকে একটা ছবি হাতে নিয়ে একটা রেড মার্কার দিয়ে তার উপর ক্রস চিহ্ন আঁকলো। মুখে বললো,
-"ইটস্ টাইম টু প্লে উইথ ইউ সানা বেবিগার্ল "
তারপর সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। এআই দিয়ে নিখুঁত ভাবে আরজের সাথে কয়েক জন অ্যাক্টের্সের যার মধ্যে ঈশানীই বেশি আছে এমন কয়েকটা ছবি এডিট করে সানার নাম্বারে পাঠিয়ে দিল।
_______________
মাস্টারের পাঠানো সেই পিক গুলোই সানা এসপিকে দেখিয়েছে। এসপি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। ছবিগুলো এমন, যে কেউ দেখে মনে করবে আরজে আর ঈশানীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের। এসপি একবার সানার দিকে তাকালো, যে এই মুহূর্তে পাশের সিটে হেলান দিয়ে বসে আছে।
-"তুই ঠিক আছিস সানা?"
সানা চোখ বন্ধ রেখেই বলল,
-"ইয়াহ আম ওকে"
এসপি জানে সানা যতই মুখেই বলুক মনে মনে ঠিকই খারাপ লাগছে তার। আফটার অল বাঙালি মেয়ে,
-"আমি জানি তোর খারাপ লাগছে"
সানা এবার চোখ খুলে বসলো,
-" ইটস্ বিন ওয়ান ইয়ারস্ এসপি। আমার সম্পূর্ণ এপোর্ট ছিল এই সম্পর্কে।
সানার চোখের কোণ কিছুটা ভিজে উঠলো। এসপি তাকে সান্তনা দিতে বলল,
-"তুই চাইলে কাঁদতে পারিস?"
সানা এবার উচ্চশব্দে হেসে দিল। সে হাসতে হাসতে বললো,
-"চার দিনের পৃথিবীতে আমি দুই দিন কান্না করব তাও অন্যের জন্য, যে আমাকে কোনদিনও মূল্যই দেয়নি। সানার চোখের পানি এতটাও সস্তা নয় "
এসপি এবার হেসে তার কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল,
-"দ্যাটস এ গুড গার্ল"
কিছু একটা ভেবে এসপি সানার দিকে তাকিয়ে আবার বললো,
-"সানা তোর মনে আছে তো আজ কিন্তু প্রীতির বিয়ে। আমি তোকে দুদিন আগে বলেছি। বিয়েতে যাবি তো?
-" অবশ্যই যাব"
_______________
সন্ধ্যা ছয়টার সময় বিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রীতি, সানা আর এসপির কলেজ ফ্রেন্ড, ক্লাস টপার ছিল।আজ তারই বিয়ে, উপস্থিত তাদের ক্লাসের মোটামুটি সবাই। সানা আর এসপি বিয়ে বাড়িতে এসে পৌঁছিয়েছে রাত আটটার উপরে। এসপি এইমুহূর্তে ভীষণ বিরক্ত সানার উপর, এই মেয়ে পাঁচটার সময় পার্লারে ঢুকেছে বলেছে এক ঘন্টা লাগবে অথচ ২ ঘন্টা পর বের হলো। তারউপর রাস্তার ট্রাফিক, সে নিজে বুঝতে পারে না মেয়েদের রেডি হতে এত সময় লাগে কীভাবে। সে তো পাঁচ মিনিটে পাঁচবার রেডি হতে পারে। অবশ্য চুল সেট করতে মাত্র একটু সময় লাগে। সানার পরনে গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা আর এসপির পরনে সাদা পাঞ্জাবি।
সানা আর এসপি স্টেজের থেকে একটু দূরে বসে আছে। একটু আগেই তারা খাওয়া-দাওয়া সেরে এসেছে। এবার বধূ আর বরের সাথে দেখা করার পালা। একটু পর সানা স্টেজের দিকে তাকিয়ে বলে,
-"এসপি, ওটা তোর এক্স গার্লফ্রেন্ড ছিল তাই না"
-"হ্যাঁ, দুদিনের রিলেশন ছিল পটে গেছে ব্রেকআপ হয়ে গেছে। আর শালী ধান্দাবাজ ছিল একসাথে চারটা বয়ফ্রেন্ড জুটে ছিল"
-"চোরের মায়ের বড় গলা, আর তোর কয়টা ছিল সেটা বল"
এসপি ভাব নিয়ে বললো,
-"আমার বেশি না ছয় থেকে সাতটা ছিল শুধু"
-"আচ্ছা নিজের বেলা ষোল আনা অন্যের বেলা জিরো আনা"
________________
রাত এগারটার দিকে কনে কে একেবারে বিদায় জানিয়ে, সব ক্লাসমেটদের থেকে বিদায় নিয়ে তারা বেরোবে। এমন সময় একজন ওয়েটার তাদের সামনে এসে বলল,
-"স্যার আপনাদের জন্য জুস"
সানা আর এসপি তাড়াতাড়ি, এই মুহূর্তে কিছু না ভেবে কোন দিকে না তাকিয়ে জুস খেয়ে বেড়িয়ে পড়ে। এমনিতেই তাদের দেরি হয়ে গিয়েছে। অথচ তারা লক্ষ্যই করল না কেউ অদূরে দাঁড়িয়ে কালো মাস্কের আড়ালে নীল চোখ দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে 'মাস্টার'। তার প্ল্যান সফল, এবার ফলাফলের পালা। ওয়েটারটা তার দিকে এগিয়ে আসে। মাস্টার তার হাতে একটা টাকার প্যাকেট ধরিয়ে বাঁকা হেসে চলে যায়।
এসপি আর সানা গাড়ির কাছে আসতেই দুজনের মাথা ঘুরে ওঠে। সানা ইতিমধ্যে চোখে ঝাপসা দেখতে পাচ্ছে। এসপির ও কেমন লাগছে, সে কিছুটা বুঝে ফেলে। এসপি সানাকে বলে,
-"কিরে এমন কেন হচ্ছে ওই জুসে কিছু ছিল নাকি?"
সানার অলরেডি অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছে।
-"এসব ছাড় আগে বল তোর গাড়ি কয়টা? আমি তিনটা দেখতে পাচ্ছি। তুই একবারও বলিস নি তুই তিনটা গাড়ি কিনেছিস?আর আমার একটাও নাই।
এসপি পাত্তা দিল না তার কথা। সেও প্রায় মাতাল হয়ে গিয়েছে।সে খেঁকিয়ে উঠলো সানার সাথে,
-"তুই রাস্তায় গিয়ে দাঁড়া যাহ আমি গাড়ি নিয়ে আসছি"
সানা আচ্ছা বলে হেলে দুলে চলে যায়। সে রাস্তার কাছে গিয়ে বলে,
-"আরে ইয়ার রাস্তা তো পাঁচটা কোনটায় দাঁড়াবো?"
এসপি এদিকে গাড়ির ডিকি ধরে টানছে আর বলছে,
-"তিনটায় একসাথে দাঁড়াবি না হলে আজকে আমি তোর কানের নিচে বাজাবো"
সানা হায় হুতাশ করতে করতে রাস্তায় বসে পড়ে,
-"ওই জাওরা আমার লাইফ শেষ করে দিয়েছে। ছাড়বো না আমি ওকে। ওর পেছনে আমি পাগলা কুত্তা লাগাবো, ভাদ্র মাসের পাগল ছেড়ে দেব।
সানা এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে কারো গাড়ির সামনে গিয়ে ধাক্কা খায়,
-"এসপির বাচ্চা এখানে তোর গাড়ি, তুই ওখানে কি করছিস?"
এসপি আবারও খ্যাক করে ওঠল,
-'তুই জানিস কচু আমার গাড়ি এটাই"
সানা এখনো ওই গাড়ির গাড়ি দরজা ধরে টানছে।
দূর থেকে মাস্ক পড়া লোকটা নিজের কালো মার্সিডিজ থেকে বেড়িয়ে তাদের দিকে আসবে তার আগেই কেউ সানার পিছনে এসে দাঁড়ায়। মাস্টার আবার নিজের গাড়িতে ফিরে যায়।
-"এক্সকিউজ মি মিস, হোয়াট আর ইউ ডুইং"
সানা উল্টো ফিরে আধো আধো চোখ খুলে তাকায়, সামনে এক সুদর্শন যুবক তার মুখ থেকে আপনা আপনি বেরিয়ে যায়,
-"কীতনা হ্যান্ডসাম"
লোকটি একবার সানার দিকে তো একবার এসপির দিকে তাকায়, যে এই মুহূর্তে সর্বশক্তি ব্যয় করে অন্য কারোর গাড়ির টায়ার ধরে টানছে। লোকটি দুজনকেই নিজের গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়।
দূর থেকে মাস্ক পরা লোকটি দাঁড়িয়ে সবটা দেখে। সে জোরে ঘুসি বসায় কয়েকটা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে। আবার তার প্ল্যান ফ্লপ হয়ে গিয়েছে। সে চিৎকার দিয়ে ওঠে,
-"আহহহহহ, আই উইল নট স্পেয়ার ইউ"
____________________
সানার সকালে ঘুম ভাঙতে দেখে সে একটা বড় বেডরুমে শুয়ে আছে। চারদিকে তাজা গোলাপের ছড়াছড়ি। সে এদিক সেদিক তাকায়, না তার চেনা জানা লাগছে না। কাল রাতের কথা ভাবতেই জুস খাওয়া পর্যন্ত মনে পড়ে, আর মনে পড়ছে না। কোথাও সে কিডন্যাপ হয়ে যায়নি তো। তাহলে এসপি কোথায়? সে বেরিয়ে আসতেই সামনে চোখে পড়ে এক সুদর্শন যুবককে। সানা ভ্রুকুটি করে সামনে তাকিয়ে, সামনের লোকটি ও তার দিকে তাকিয়ে আছে। একটু পর এসপি সানার পিছন থেকে এসে সামনে তাকিয়ে বলে,
-"ব্রো"
সানা চোখ বড় বড় করে অবাক কণ্ঠে বলে,
-"ব্রোহ মানেহ.....
সারহাদ চৌধুরী"
-চলবে....
