Cherreads

Love story with male

Maisha_Mitu
7
chs / week
The average realized release rate over the past 30 days is 7 chs / week.
--
NOT RATINGS
100
Views
Table of contents
VIEW MORE

Chapter 1 - Chapter:1

Hello everyone আজকে তোমরা জানবে মায়া ও রাফির জীবন কাহিনি, কীভাবে একটা মেয়ের সংসার ভেঙে গেলো....চলুন শুরু করি-----

ভালোবাসার শেষ ঠিকানা

মেঘলা আকাশের মতোই ছিল মায়ার মন। কখনো উজ্জ্বল, কখনো বিষণ্ন। ছোটবেলা থেকেই সে একটু স্বপ্নবাজ ছিল। ভালোবাসা, সংসার—সবকিছু নিয়েই তার মনে ছিল হাজারো রঙিন কল্পনা।

কলেজে পড়ার সময়ই মায়ার জীবনে আসে রাফি। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব ভালোবাসায় রূপ নেয়। রাফির চোখে মায়া ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে, আর মায়ার কাছে রাফিই ছিল তার সবকিছু।

অনেক বাধা পেরিয়ে, দুই পরিবারের অমতে, তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত কিছুটা মান-অভিমান, কিছুটা জেদের পর, দুজনের বিয়ে হয়। মায়া ভেবেছিল—এটাই তার স্বপ্নের শুরু।

কিন্তু সে জানত না, এই স্বপ্নের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য ঝড়।

নতুন সংসার, নতুন বাস্তবতা

বিয়ের পর মায়া প্রথমদিন শ্বশুরবাড়িতে পা রাখে অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু তার শাশুড়ি সালেহা বেগম তাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখলেন না।

"এই মেয়েটার মধ্যে কেমন যেন একটা অহংকার আছে," প্রথম দিনই পাশের এক আত্মীয়কে বলেছিলেন তিনি।

মায়া প্রথমে বিষয়টা গুরুত্ব দেয়নি। সে ভাবত—সময় গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। সে চেষ্টা করত শাশুড়ির মন জিততে। সকালে উঠে রান্না করা, ঘরের কাজ সামলানো—সবকিছুতেই সে আন্তরিক ছিল।

কিন্তু যতই সে চেষ্টা করত, ততই যেন দূরত্ব বাড়তে লাগল।

"তুমি ঠিকভাবে রান্না করতে পারো না।"

"আমাদের বাড়ির নিয়ম-কানুন তোমার জানা নেই।"

"আমার ছেলের জন্য আমি আরও ভালো মেয়ে চাইতাম।"

এই কথাগুলো প্রতিদিন মায়ার কানে বাজত।

ভালোবাসার টানাপোড়েন

রাফি শুরুতে মায়ার পাশে থাকত। সে মাকে বোঝানোর চেষ্টা করত। কিন্তু ধীরে ধীরে সে নিজেও ক্লান্ত হয়ে পড়ল।

"মায়া, তুমি একটু মাকে বুঝে চলার চেষ্টা করো না?"—একদিন বলল রাফি।

মায়ার বুকটা কেঁপে উঠল।

"আমি তো চেষ্টা করছি রাফি… কিন্তু আমি আর কতটা বদলাবো?"

রাফি চুপ করে থাকল।

সেই নীরবতাই ছিল মায়ার জন্য সবচেয়ে কষ্টের।

অভিমান জমতে থাকে

দিন যেতে লাগল, আর মায়ার মনটা ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে লাগল। সে আর আগের মতো হাসত না, কথা বলত না।

একদিন রাতে, শাশুড়ির সাথে ছোট একটা বিষয় নিয়ে বড় ঝগড়া হয়ে গেল।

"এই বাড়িতে থাকতে হলে আমার নিয়ম মেনে চলতে হবে!"—কঠিন গলায় বললেন সালেহা বেগম।

মায়া আর নিজেকে সামলাতে পারল না।

"আমি তো চেষ্টা করছি, কিন্তু আমাকে কি মানুষ হিসেবে একটু সম্মান দেওয়া যায় না?"

এই কথা শুনে রাফি বিরক্ত হয়ে উঠল।

"মায়া, তুমি কেন সবসময় ঝগড়া বাড়াও?"

মায়ার চোখে জল এসে গেল।

"আমি ঝগড়া করছি, নাকি নিজের সম্মানের জন্য কথা বলছি?"

শেষ সিদ্ধান্ত

সেই রাতটাই ছিল মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত।

মায়া বুঝতে পারল—এই সম্পর্কটায় সে একা হয়ে গেছে। যে মানুষটার জন্য সে সব ছেড়ে এসেছে, সেই মানুষটাই আজ তার পাশে নেই।

পরদিন সকালে, চুপচাপ নিজের কিছু কাপড় গুছিয়ে নিল সে।

রাফি অবাক হয়ে বলল, "তুমি কোথায় যাচ্ছ?"

মায়া শান্ত গলায় বলল—

"আমি যাচ্ছি আমার নিজের সম্মানটা বাঁচাতে। ভালোবাসা একা দিয়ে সংসার টেকে না, রাফি… সম্মান আর বোঝাপড়াও লাগে।"

রাফি কিছু বলতে পারল না।

শুধু দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখল—মায়া ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে।

শেষ কথা

মায়া চলে যাওয়ার পর রাফি বুঝতে পারল—সে কত বড় একটা ভুল করেছে। কিন্তু তখন আর কিছু করার ছিল না।

ভালোবাসা ছিল, কিন্তু সেই ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখার মতো সাহস আর সমর্থন ছিল না।

আর মায়া?

সে আবার নতুন করে নিজের জীবন গড়তে শুরু করল।

কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—

"যেখানে সম্মান নেই, সেখানে ভালোবাসা কখনো টেকে না।"

যেখানে সম্মান থাকে না সেখানে ভালোবাসাও থাকে না🙂😔