রাতটা যেন অস্বাভাবিক নীরব…
সমুদ্রের ঢেউ আজ অদ্ভুতভাবে ধীরে ধীরে উঠছে, যেন কোনো বড় ঝড় আসার আগে সবকিছু থমকে গেছে।
অয়ন সেই রাতেই সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। তার মাথার ভেতর বারবার ঘুরছে সেই ডায়েরির কথা, সেই নাম—আনা।
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা টান…
— "আমি কেন তাকে ভুলে গেলাম…?"
ঠিক তখনই, হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে যায়।
সমুদ্রের মাঝখান থেকে এক বিশাল ঘূর্ণি তৈরি হয়… আর তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এক ভয়ংকর ছায়ামূর্তি।
সে নিজেকে পরিচয় দেয়—
— "আমি নেরিয়াস… সমুদ্রের অভিশপ্ত রক্ষক!"
তার চোখে ছিল আগুনের মতো লাল আভা।
— "আনা আমাদের নিয়ম ভেঙেছে। তাই তার শাস্তি শুধু তার নয়… তোমাকেও দিতে হবে!"
অয়ন কিছুই বুঝতে পারে না, কিন্তু সে পিছিয়ে যায় না।
— "আমি জানি না তুমি কী বলছো… কিন্তু আমি তাকে আঘাত করতে দেব না!"
ঠিক তখনই আনা দৌড়ে এসে পৌঁছায়।
— "অয়ন! দূরে যাও!"
নেরিয়াস হেসে ওঠে,
— "দেখো আনা, তুমি মানুষ হয়ে কী পেয়েছো? সে তো তোমাকে চিনেই না!"
এই কথা শুনে আনার চোখে জল এসে যায়।
কিন্তু সে নিজেকে শক্ত করে।
হঠাৎ করে নেরিয়াস তার শক্তি ব্যবহার করে অয়নকে শূন্যে তুলে ফেলে।
অয়ন ছটফট করতে থাকে…
— "ছেড়ে দাও তাকে!" আনা চিৎকার করে ওঠে।
নেরিয়াস বলে,
— "তুমি যদি সত্যিই তাকে বাঁচাতে চাও… তাহলে তোমাকে আবার সমুদ্রে ফিরে আসতে হবে—চিরতরে!"
এ যেন সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত…
আনা চোখ বন্ধ করে ফেলে।
তার মনে পড়ে—অয়নের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো, তার হাসি, তার ভালোবাসা…
কিন্তু অয়ন ধীরে ধীরে শ্বাস হারাচ্ছে।
অবশেষে আনা চিৎকার করে বলে—
— "ঠিক আছে! আমি ফিরে যাবো! শুধু তাকে ছেড়ে দাও!"
নেরিয়াস এক ভয়ংকর হাসি দেয়…
আর ঠিক তখনই অয়ন মাটিতে পড়ে যায়।
আনা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে।
— "তুমি ঠিক আছো?"
অয়ন চোখ খুলে ধীরে বলে,
— "আমি… এখন সব মনে করতে পারছি…"
আনা অবাক হয়ে তাকায়।
— "কী?"
অয়ন কাঁপা গলায় বলে,
— "তুমি… সেই জলপরি… তুমি আমার আনা…"
এই মুহূর্তে সময় যেন থেমে যায়।
অয়ন সব মনে করতে পেরেছে!
কিন্তু…
এই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকে না।
নেরিয়াস আবার বলে ওঠে,
— "খেলা এখনও শেষ হয়নি!"
হঠাৎ করে সমুদ্র থেকে এক অদ্ভুত আলো বেরিয়ে আসে, আর তার ভেতর থেকে দেখা যায়—
সমুদ্রের রানি!
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বলেন,
— "আনা, তুমি তোমার ভালোবাসার জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত… কিন্তু তুমি কি সত্য জানো?"
আনা কাঁপতে কাঁপতে বলে,
— "কোন সত্য?"
রানি ঠান্ডা গলায় বলেন—
— "অয়ন কোনো সাধারণ মানুষ নয়…"
ড্রামা টুইস্ট ✨
— "সে আসলে এক অভিশপ্ত রাজপুত্র… যে বহু বছর আগে সমুদ্রের শক্তি চুরি করার চেষ্টা করেছিল!"
অয়ন স্তব্ধ হয়ে যায়।
তার মাথার ভেতর আবার নতুন স্মৃতি ভেসে ওঠে—
এক পুরোনো জীবন… রাজপ্রাসাদ… আর সমুদ্রের সাথে এক ভয়ংকর চুক্তি…
আনা অবিশ্বাসে বলে,
— "না… এটা সত্যি হতে পারে না!"
রানি বলেন,
— "তোমাদের ভালোবাসা শুরুই হয়েছিল এক মিথ্যার উপর…"
অয়ন মাথা নিচু করে ফেলে।
— "হয়তো… আমি সত্যিই খারাপ ছিলাম…"
আনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
সে বুঝতে পারছে না—কাকে বিশ্বাস করবে? ভালোবাসাকে, না সত্যকে?
শেষ দৃশ্য—
সমুদ্রের ঢেউ হঠাৎ ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
নেরিয়াস চিৎকার করে বলে,
— "এবার সিদ্ধান্তের সময়! ভালোবাসা… না সত্য?"
আনা আর অয়ন একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে…
তাদের চোখে ভয়, ভালোবাসা, আর অনিশ্চয়তা…
🌊💔✨
Chapter 3: অভিশাপের অন্ধকার ও হারানো পরিচয়
রাতটা যেন অস্বাভাবিক নীরব…
সমুদ্রের ঢেউ আজ অদ্ভুতভাবে ধীরে ধীরে উঠছে, যেন কোনো বড় ঝড় আসার আগে সবকিছু থমকে গেছে।
অয়ন সেই রাতেই সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। তার মাথার ভেতর বারবার ঘুরছে সেই ডায়েরির কথা, সেই নাম—আনা।
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা টান…
— "আমি কেন তাকে ভুলে গেলাম…?"
ঠিক তখনই, হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে যায়।
সমুদ্রের মাঝখান থেকে এক বিশাল ঘূর্ণি তৈরি হয়… আর তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে এক ভয়ংকর ছায়ামূর্তি।
সে নিজেকে পরিচয় দেয়—
— "আমি নেরিয়াস… সমুদ্রের অভিশপ্ত রক্ষক!"
তার চোখে ছিল আগুনের মতো লাল আভা।
— "আনা আমাদের নিয়ম ভেঙেছে। তাই তার শাস্তি শুধু তার নয়… তোমাকেও দিতে হবে!"
অয়ন কিছুই বুঝতে পারে না, কিন্তু সে পিছিয়ে যায় না।
— "আমি জানি না তুমি কী বলছো… কিন্তু আমি তাকে আঘাত করতে দেব না!"
ঠিক তখনই আনা দৌড়ে এসে পৌঁছায়।
— "অয়ন! দূরে যাও!"
নেরিয়াস হেসে ওঠে,
— "দেখো আনা, তুমি মানুষ হয়ে কী পেয়েছো? সে তো তোমাকে চিনেই না!"
এই কথা শুনে আনার চোখে জল এসে যায়।
কিন্তু সে নিজেকে শক্ত করে।
হঠাৎ করে নেরিয়াস তার শক্তি ব্যবহার করে অয়নকে শূন্যে তুলে ফেলে।
অয়ন ছটফট করতে থাকে…
— "ছেড়ে দাও তাকে!" আনা চিৎকার করে ওঠে।
নেরিয়াস বলে,
— "তুমি যদি সত্যিই তাকে বাঁচাতে চাও… তাহলে তোমাকে আবার সমুদ্রে ফিরে আসতে হবে—চিরতরে!"
এ যেন সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত…
আনা চোখ বন্ধ করে ফেলে।
তার মনে পড়ে—অয়নের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো, তার হাসি, তার ভালোবাসা…
কিন্তু অয়ন ধীরে ধীরে শ্বাস হারাচ্ছে।
অবশেষে আনা চিৎকার করে বলে—
— "ঠিক আছে! আমি ফিরে যাবো! শুধু তাকে ছেড়ে দাও!"
নেরিয়াস এক ভয়ংকর হাসি দেয়…
আর ঠিক তখনই অয়ন মাটিতে পড়ে যায়।
আনা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে।
— "তুমি ঠিক আছো?"
অয়ন চোখ খুলে ধীরে বলে,
— "আমি… এখন সব মনে করতে পারছি…"
আনা অবাক হয়ে তাকায়।
— "কী?"
অয়ন কাঁপা গলায় বলে,
— "তুমি… সেই জলপরি… তুমি আমার আনা…"
এই মুহূর্তে সময় যেন থেমে যায়।
অয়ন সব মনে করতে পেরেছে!
কিন্তু…
এই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকে না।
নেরিয়াস আবার বলে ওঠে,
— "খেলা এখনও শেষ হয়নি!"
হঠাৎ করে সমুদ্র থেকে এক অদ্ভুত আলো বেরিয়ে আসে, আর তার ভেতর থেকে দেখা যায়—
সমুদ্রের রানি!
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বলেন,
— "আনা, তুমি তোমার ভালোবাসার জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত… কিন্তু তুমি কি সত্য জানো?"
আনা কাঁপতে কাঁপতে বলে,
— "কোন সত্য?"
রানি ঠান্ডা গলায় বলেন—
— "অয়ন কোনো সাধারণ মানুষ নয়…"
ড্রামা টুইস্ট ✨
— "সে আসলে এক অভিশপ্ত রাজপুত্র… যে বহু বছর আগে সমুদ্রের শক্তি চুরি করার চেষ্টা করেছিল!"
অয়ন স্তব্ধ হয়ে যায়।
তার মাথার ভেতর আবার নতুন স্মৃতি ভেসে ওঠে—
এক পুরোনো জীবন… রাজপ্রাসাদ… আর সমুদ্রের সাথে এক ভয়ংকর চুক্তি…
আনা অবিশ্বাসে বলে,
— "না… এটা সত্যি হতে পারে না!"
রানি বলেন,
— "তোমাদের ভালোবাসা শুরুই হয়েছিল এক মিথ্যার উপর…"
অয়ন মাথা নিচু করে ফেলে।
— "হয়তো… আমি সত্যিই খারাপ ছিলাম…"
আনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
সে বুঝতে পারছে না—কাকে বিশ্বাস করবে? ভালোবাসাকে, না সত্যকে?
শেষ দৃশ্য—
সমুদ্রের ঢেউ হঠাৎ ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
নেরিয়াস চিৎকার করে বলে,
— "এবার সিদ্ধান্তের সময়! ভালোবাসা… না সত্য?"
আনা আর অয়ন একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে…
তাদের চোখে ভয়, ভালোবাসা, আর অনিশ্চয়তা…
🌊💔✨
চলবে…
